নিস্তব্ধ কোলাহল আজকাল প্রায় শুনতে পাই,
একটিবার ঘরের বাইরে যেতে চাওয়ার কোলাহল,
বন্ধ চায়ের টংয়ে ট্রান্সপারেন্ট কাঁচের গ্লাসের কোলাহল;
খুব নিস্তব্ধ।
রাস্তার ধূলোগুলোও কি বাতাসে উড়তে ভয় পায়?
বাতাসে লেগে থাকে গাড়ির কালো ধোঁয়ার কোলাহল,
হাজার রঙের মানুষগুলোর শ্বাস-প্রশ্বাসের কোলাহল,
আজকাল বাতাসে ভাসতে থাকে,
তবে খুব আস্তে, নিস্তব্ধতায়।
ক্লাসের বেণ্চিতে মাথা লাগিয়ে ঘুমিয়ে থাকা মেয়েটার হৃদকম্পনের কোলাহল,
পাঁচ মিনিট ব্যয় করা অংকটায় স্যারের খ্যাঁচ করে কেটে দাওয়া দাগের কোলাহল,
কলেজের বারান্দায় জমে যাওয়া শুকনো পাতার কোলাহল,
এসে কানে লাগে, খুব ধীরে, নিস্তব্ধতায়।
রেঁস্তোরায় টুংটাং চামচের শব্দ আর তোমার চুল কানের পেছনে গুঁজে দেওয়ার কোলাহলে,
নামাজ শেষে আঁতরের গন্ধ আর দুটো সাদা পান্জাবীর হরদম কোলাকুলির কোলাহলে,
অফিস পাড়ায় টিফিন চলাকালীন বিশ টাকার প্যাটিসে দু-চার কামড় বসানোর কোলাহলে,
কিংবা ক্রিকেট মাঠে, পথে-ঘাটে, গার্মেন্টসে, বস্তিতে অথবা রাজনৈতিক লেকচারের কোলাহলে;
আজকাল শব্দ দূষণ হচ্ছে ভীষণ,
তবে খুব ধীরে, আস্তে, নিস্তব্ধতায়।











