Insomniac (অনিদ্রাক্রান্ত)

Insomniac (অনিদ্রাক্রান্ত)

Rajiul Huda Dipto is a professional screenplay writer and working for years in the Bangladeshi TV industry. Besides that, he introduces himself as a photographer, whose photographs have been featured in various magazines and exhibitions all around the world. Not regularly, but he publishes his works in national dailies as well. Currently, he is working as a community writer in BuzzFeed and a contributor in Getty Images.

When you die inside,
Inside of your soul,
I bet you may never know,
The fact to fill the hole,

The hole which is created,
Life means the hoax,
Not just to lay you down,
But why do I face the crux?

Hide is the criteria,
Search is the trim,
My nights are called Insomnia,
And, I only miss my dreams.

The coin I have thrown,
Have thrown inside the love pond,
I believe it is just a myth,
But will I admire my love has gone?

Now my life can be stolen,
And, I can leave the world,
But, my love will be with you,
Whether, I live or not,

When the earth shakes by itself,
Or I shake my mind,
You become the psycho,
And, I hope the God is kind,

My lips speak what your heart says,
Love takes you closer to God,
I run faster than a heartbeat,
Your eyes pierce me a lot,

Quench my thirst with your eyes,
Embellish all the beams,
My nights are called Insomnia,
And, I only miss my dreams.

আমি তোমায় পুরোটা চাই (A confession)

আমি তোমায় পুরোটা চাই (A confession)

Rajiul Huda Dipto is a professional screenplay writer and working for years in the Bangladeshi TV industry. Besides that, he introduces himself as a photographer, whose photographs have been featured in various magazines and exhibitions all around the world. Not regularly, but he publishes his works in national dailies as well. Currently, he is working as a community writer in BuzzFeed and a contributor in Getty Images.

 

আমি তোমায় পুরোটা চাই,
ঠিক পুরোটা মানে পুরোটাই,
শাড়ীর আঁচল হাতের ঘড়ি লেপ্টে থাকুক এমনি এমনি অর্ধেক জুড়ে,
কাছে আসাটা এমন হোক যেন এক শরীরের দুটো আত্মা ভুল কামনায়,
আমি তোমায় পুরোটা চাই।

কানের উপর নাচতে থাকা চুলগুলোকে কানের পিছে গোজার মানে খুঁজতে যাইনি,
সরাতেই হলে দুটো হাত দিয়ে পেছন দিকে বেঁধে ফেলো সব ঝঞ্ঝাট,
যেমন বেঁধে রেখেছো আমাকে নামহীন এক সম্পর্কের উপর,
অর্ধেক রাতে বিদায় নেয়াটা খুন হবে কবে আমার হাতেই,
কারণ,আমি তোমায় পুরোটা চাই।

শুঁকে নিতে চাই গাল ঘেসে তোমার পড়তে থাকা নোনতা জলের বিন্দুগুলো,
নতুন করে,
ভয়ে ভয়ে নয় নির্ভয় থাক ছাদের সন্ধ্যায় আমার নামে জ্বলতে থাকা চায়ের ধোয়া,
উড়ে যাওয়া ওই প্রেমের ঘুড়ির নাটাই সূতো হোক না তবে অর্ধেক ক্ষয়,
আমি তোমায় পুরোটা চাই।

ভালোবাসা হোক অতীতের নাম,
তোমার সাথে বিরহ থাকুক,
বারংবারই প্রেমে পড়বো এই বাহানায়,
শীতের সকাল লেপ্টে থাকুক তোমার চাদরে ভাজ পড়ে থাকা সেলাই ডগায়,
হাসতে হলে দেখবো আমি অনিয়মে জন্ম নেয়া তোমার দাঁতের বেমানান সারি,
স্বপ্ন দেখলে দেখবো তবে চোখ ঘুরিয়ে হোক না রাতটা,
অর্ধেক নয়,
আমি তোমায় পুরোটা চাই।

আমার মতো ভালোবাসতে শেখোনি এখনো (You haven’t learned the way I love)

আমার মতো ভালোবাসতে শেখোনি এখনো (You haven’t learned the way I love)

Rajiul Huda Dipto is a professional screenplay writer and working for years in the Bangladeshi TV industry. Besides that, he introduces himself as a photographer, whose photographs have been featured in various magazines and exhibitions all around the world. Not regularly, but he publishes his works in national dailies as well. Currently, he is working as a community writer in BuzzFeed and a contributor in Getty Images.

 

আমার মতো ভালোবাসতে শেখোনি এখনো,
এই কয়েক বছর,এই কয়েক বছরে তো সরকার নড়েচড়ে বসে পাল্টানোর ভয়ে,
অবলা শিশু প্রস্তুত হয় ব্যাগের ভারে কাঁধ ঝুকানোর স্বপ্নে,
প্রবাসী ছেলে প্রস্তুতি নেয় ঘরে ফেরার,
এই কয়েক বছর আগের ললাট চুম্বন যদি তুমি ভুলে গিয়ে থাকো,
তবে আমার মতো ভালোবাসতে,
শেখোনি এখনো।
আমি ভুলিনাই।

আমার মতো শুকনো ম্যাসেজ বক্স যদি তুমি কখনো দেখে না থেকে থাকো,
তবে তুমি শেখোনি এখনো,
কম ভাড়ার লোকাল বাসে জানালার ধারের সিটে বসে আমার কথা ভাবতে ভাবতে চুল উড়ার সুখে যদি না মেতে থাকো তবে,
শেখোনি এখনো,
কারো এতটা কাছে,এতোটা কাছে চলে আসার পরেও যদি আমার চেহারা তোমার স্নায়ু থমকে না দেয়,
তুমি শেখোনি এখনো।

আমার ঢঙ এ ভালোবাসতে তোমরা কেউই শেখোনি এখনো,
‘I don’t need day to love,all I need is you’,
পৃথিবীর সব কোণায় কোণায় শুকনো তাজা সব পাতায় পাতায় অট্টালিকায় উঁচু নিচু সব ভাবনায় চাইবো তোমায়,
যদি তুমি না থাকো তবে থাকবে না কেউ,
এই অসহ্য চিন্তা যদি তোমাদের কাছে হিজিবিজি লাগে,
তবে ঠিক আমার মতো কেউই তোমরা ভালোবাসতে,
শেখোনি এখনো।

আজও কি তোমরা দেহের লোভে দুই এক দিনে ফোনের পাড়ে রাতের বেলা মিনিট গুণে চর্চা করো?
আজও কি সেই ভিন্ন ভিন্ন মাংস লোভে অভিন্ন রকম কায়দা করে ইচ্ছে করে হাতটা ধরো,
আজও কি সেই এ ধার ও ধার চিপায় চিপায় আঁটসাঁট সব স্বপ্ন দেখো,
দু:খ তবে সংগী হোক,
তোমরা কেউই আমার ধাঁচে ভালোবাসতে,শেখোনি এখনো।

আমি ফেরত যেতে চাই (I want to go back)

আমি ফেরত যেতে চাই (I want to go back)

Rajiul Huda Dipto is a professional screenplay writer and working for years in the Bangladeshi TV industry. Besides that, he introduces himself as a photographer, whose photographs have been featured in various magazines and exhibitions all around the world. Not regularly, but he publishes his works in national dailies as well. Currently, he is working as a community writer in BuzzFeed and a contributor in Getty Images.

ব্রিটিশ কাল এই বাংলা ছেড়ে চলে গেছে ঠিকই,কিন্তু বিকাল ও সন্ধ্যার মধ্যবর্তী সময়টা তে আজও তারা বাস করে। আমি জানিনা,এই সমস্যা শুধু আমার হয় না কি অন্য দেরও কিন্তু এই নির্দিষ্ট সময়টা কিছুটা western western মনে হয়। Western মানে হানগামা নাচানাচি typeএর নয়,এটা খুবই শান্ত ও মন খারাপ ধরনের। মনে হয় সেই সময়ের কষ্টগুলো এই বিশাল শহরের বিশাল দালান ধরে ধরে কাঁদছে আবার মনে হয় সেই সময়ের সুখগুলো আমাদের দিকে তাকিয়ে বলছে,”কি? পারলেনা তো ধরে রাখতে?”

যখন গ্রাম এলাকায় যাই,এই জিনিসটা বেশী অনুভূত হয়। ধানের চাতালের ঠান্ডা মাটিতে বিরহ বাস করে। স্যাঁতসেঁতে দেয়ালে যখন শেষ সূর্যটা তার ছাপ রেখে যেতে চায়,হুঁ হুঁ করে কাঁদতে থাকে দেয়াল বেয়ে চুইতে থাকা পানি। আর সেটা দেশের যে জায়গায় হোকনা কেন,একি সময়ে প্রতিটা দিন একি ধরনের পাখি ডাকে। আমি বলে বুঝাতে পারবোনা সেটা কেমন,ঠিক যেমন বলে বুঝাতে পারবোনা সেটা হাসি নাকি কান্না সুখ নাকি বিরহ।

আব্বুর বকাঝকার ফলশ্রুতি তে নৌকায় চড়া কম হয়েছে। তবুও,শেষ বিকালে একবার নৌকায় চড়েছিলাম। খুব বড় হইনি তখনো। দু’টো জিনিস আমার ইন্দ্রিয়জয় করছিলো। শান্ত বিকালে বৈঠার সাথে পানির যুদ্ধের আওয়াজ আর ততটাই শান্ত ভাবের নদীর পাড়ের মাটির গন্ধ। আর কোনো কথা ছিলোনা। আচ্ছা,এইটা কি সুখ ছিলো নাকি এই জমিনের হাজারটা দিনের চেপে রাখা কষ্টের অল্প রকম আভাস।

ছোটবেলার কথা মনে পড়ছে। যখন দাদী বাড়িতে যেতাম, বিশেষত ঈদে তখন ঠান্ডার সময় থাকতো। আঙিনায় এক পাশে হেঁসেল বা রান্নাঘর ছিলো। দাদী চিতাই বা ভাপাপিঠা বানাতেন। রান্নাঘরের উপরে লম্বা পাইপ দেয়া থাকতো। হ্যাঁ,এই ব্যাপারটা western. তো,সেই পাইপ দিয়ে ধোঁয়াগুলো কালচে হয়ে বের হয়ে যেত স্বাভাবিকভাবেই। অন্যরা সেই খোঁয়ার চোটে কাশিকে নিজের সংগী বানাতো ঠিকই,কিন্তু আমি তার মধ্যে এক ধরনের গন্ধ পেতাম। সেই ধোঁয়ায় একটা সুখ লাগতো,একটা নেশা লাগতো। মনে হতো,আমি প্রতিদিন সেই বিকাল-সন্ধ্যার মধ্যের সময়ে এই ধোঁয়া শুঁকতে থাকি নেশাখোরের মতো। আচ্ছা,এই কালো খোঁয়া কি আমাকে আসলেই সুখ দিয়েছিলো নাকি আমার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছিলো বিরহ ইন্দ্রিয়?

আর একটা অতীত স্মৃতিতে ডুবতে চাইছি। ঢাকায় যেখানে থাকি সেখানে,৭ তলায় আমার বসবাস। Ground floor এ এই ভবনের বাচ্চারা খেলতে থাকে,চিতকার করে। এই চিতকার যেন একেকটা time machine এর ভূমিকায় অবতার হয়। আমাকে আমার ছোটবেলাতে নিয়ে যায়। আমি অনেক আদরের ছিলাম। বাসার সীমারেখার বাইরে ছোটবেলায় খেলার সুযোগ কম হয়েছে। তবে,মাঝে মাঝে যখন কোনো আত্মীয়র বাসায় যেতাম তখন লাগামহীন ঘোড়া ছিলাম। এমনি একজনের বাসার সামনে মাঠ ধরনের ছিলো। আমি শুনেছি,চাঁপাই নবাবগঞ্জ এমন একটা জেলা যেখানে মেয়ের সংখ্যা বেশী। এই অপ্রমাণিত তথ্য আমার বিশ্বাস হয়েছে। I am brought up with girls. অনেক লাজুক ধরনের ছিলাম। কিন্তু,ঘুরে ফিরে বেশীর ভাগ খেলতে হতো ওই আপু বা X Y এর সাথেই। তো,এমনি এক বিকাল সন্ধ্যার মধ্যের সময় ছিলো। যাদের বাসায় গেছি,সেও মেয়ে। আমার আজও মনে আছে,তার লাল একটা ফ্রর্ক ছিলো পড়া ছিলো তার পেছনে মাজার উপরে দু’টো ফিতা ছিলো। ওই যে থাকে না,ফ্রর্কটা টাইট করার জন্য। তো,আমি লজ্জায় কাহিল। সে বারবার তার এলাকার খেলার বন্ধুদের সাথে আমাকে মেশানোর চেষ্টা করছে। এখন ভাবলে আমি বুঝি,কত টা বেকুব ছিলাম। অনেক কষ্টে খেলতে নামলাম ‘বরফ পানি’ নাম এর বিখ্যাত খেলা। আমার মনে আছে,সেই মেয়েটা দৌড়াচ্ছিলো। এতো জোরে দৌড়াচ্ছিলো যে তার ফ্রর্ক এর ফিতা দুইটা উড়ছিলো। ছোট ফিতা বলে বেশী উড়তে পারছিলোনা ঠিকই। কিন্তু,আমার চোখে তা লেগেছিলো। এই জিনিসটা আমার মধ্যে এক ধরনের মোহ সৃষ্টি করেছিলো। আমার পা আটকিয়ে গেছিলো। একই সাথে কানে আসছিলো ওই পাখির আওয়াজ আর সন্ধ্যে বেলার মখমল ধরনের অদ্ভুত গন্ধ। কেউ আমাকে মোহের মধ্যে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। আমার স্পষ্ট মনে আছে। আমি ঘাসের উপর পড়ে ছিলাম। আর সেই ঘাস আর মাটির ছোঁয়া আমাকে বাধ্য করছিলো আমি যেন তাদের সাথেই মিশে যায়,সেখানেই যেন শুয়ে থাকি। বিশ্বাস করুন,আমার উঠতে ইচ্ছা করেনি। আচ্ছা সেই লাল ফিতা আর এই বেনামি মোহ কি আমাকে সুখ খুঁজে পাওয়ার ঠিক নির্দেশনা দিয়েছিলো,নাকি এটি ছিলো বারবার পড়ে যাওয়া দু:খের বার্তা?

আমি স্থিরতা অনুভব করছি,বাইরে যতটা স্থিরতা ভেতরটা ঠিক ততটাই অস্থির। আমি ফেরত যেতে চাই,উত্তর খুঁজতে।

ভাঙা ফ্রেম আর অকেজো অপ্সরী (A broken frame and fairy)

ভাঙা ফ্রেম আর অকেজো অপ্সরী (A broken frame and fairy)

Rajiul Huda Dipto is a professional screenplay writer and working for years in the Bangladeshi TV industry. Besides that, he introduces himself as a photographer, whose photographs have been featured in various magazines and exhibitions all around the world. Not regularly, but he publishes his works in national dailies as well. Currently, he is working as a community writer in BuzzFeed and a contributor in Getty Images.

 

-“তুই এই ধরনের বাজে অভিযোগ তোর বাবার opposite এ বলতে পারিস না।”

-“কেনো? যেটা হয়েছে সেটা কেনো বলতে পারি না? আমি নেহাতই তোমার মেয়ে বলে?”

-“তুই কিসের ভিত্তিতে এই সব বলছিস?”

-“তোমার ফোন log, মেসেজ লিস্ট। ফোন operate এ তুমি বরাবরই একটু কাঁচা।”

-“তোর লজ্জা করে না? তুই লুকিয়ে লুকিয়ে…..।”

-“তোমার লজ্জা করেনি, বাবা? মায়ের কাছে লুকিয়ে লুকিয়ে…..।”

বাবার সাথে এই conversation এর আমি একটু flash back এ যাই।

এই হোটেলটা অনেক rich. উচ্চবিত্ত পরিবার এর মেয়ে বলে, এইখানে প্রায়শই আসা যাওয়া লেগে থাকে আমার। তবে, আজ সন্ধ্যাটা অন্য আসা-যাওয়া সন্ধ্যার চেয়ে ভিন্ন। যে টেবিল এই দেখছি, হয় কাপল নাহয় বন্ধু-বান্ধব এ ভর্তি। As a couple কখনো আসা হয়নি আমার। “আমার বন্ধু’র সংখ্যা নেহাতই কম নয়” এই ধরনের কথা বলে আমি আমার উচ্চবিত্ত status এর পরিচয় দিতে চাচ্ছিনা আজকে। তবে, হ্যাঁ ওদের সাথেই এইখানে আসা হয় অনেক বেশী। আজ বিষয়টা একদমই উলটো। একটা দুই চেয়ার এর টেবিলে আমি বসা। যে লোকটার পাশের চেয়ারে বসে প্রতি রাতে ডিনার করি, আজ সে লোকটা আমার উলটো পাশের চেয়ারে বসা। আমার বাবা।

-“তুই আমাকে তোর মাকে না জানিয়ে এইখানে আসতে বলেছিস কেনো?”

বাবার এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে ভালোভাবে আছে। তবে, এই প্রশ্নের উত্তর নেহাতই উত্তর নয় বরং উলটো একটা প্রশ্ন। আমার হাঁটু লাফাচ্ছে অতি দ্রুত মাত্রায়। পা এর গোড়ালি, মাটিতে নেই। পায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে ভর করে তা খাড়াভাবে দাঁড়ানো। আজ যথেষ্ট বড় স্কার্ট পড়েছি, তবুও অজানা কারণে আমি টান দিয়ে তা বড় করার চেষ্টা করছি। হাত ঘামছে অসম্ভব ভাবে। বাবার দিকে তাকানো দুর্বিষহ এই মুহূর্তে।

-“Sir, what would you like to have?”

ওয়েটারের আগমন।

-“I will just have a coffee. ওর জন্য একটা stick and apple juice. Make sure juice e যেনো extra ice না থাকে। আমার মেয়ে একদম পছন্দ করে না।”

-“Sure, Sir. 20 minutes.”

আমি এই মানুষটার দিকে এখন তাকাতে পারছি। গত মাসেও হাসি মুখে তার দিকে তাকাতাম। আর, আজ অবাক হয়ে। বাবা জানে আমি এইখানে আসলে কি খাই, কিভাবে খাই। আর, আমি তা জানতে পেরে অবাক। যখন বাস্তবের মুখোমুখি হতে হয় আমাকে, আমি নিজের কাছে নিজেকে অনেক ছোট ভাবি। বাবা কি সত্যি এমন?

-“10 minutes ধরে আমরা এইখানে। তুই চুপ। তোর যদি এইখানে আসার ইচ্ছা থাকতো, আগে বলতিস। তোর মাকেও নিয়ে আসতাম। লুকিয়ে লুকিয়ে কেনো? তুই কিছু বলবিনা?”

আমি আমার নখ এর সাথে নখ ঘোষা শুরু করে দিয়েছি। টেবিল এর মধ্যেখানে ছোট bowl এর পানিতে ভেজানো গোলাপের পাঁপড়ি আমাকে বলছে আমাকে একবার শুঁকে নিয়ে ভুলে যাও এই সব। কি দরকার শুধু শুধু অশান্তি ডাকার?

-“বাবা, তুমি এমন কেনো করেছো?”

-“কেমন কি? কি করেছি?”

-“আমার সাথে…..মায়ের সাথে, এমন কেনো করেছো বাবা?”

আমি বাবার দিক থেকে চোখ নামিয়ে নিচে রেখেছি আমার দৃষ্টিকোণ। দারুণ ভাবে বুঝতে পারছি, বাবা আমার চোখের দিকে তাকাচ্ছে।

-“কি করেছি রে? তুই কি আমাকে খুলে বলবি?”

উফফ! আর থাকতে পারছি না। আমি এতোটা এসে কিভাবে পেছনে সরতে পারি? আমি বাবার দিকে তাকাই।

-“শায়লা আন্টি…..”

বাবা একটু পিছনে সরে যায়। তার পিঠ চেয়ারের গায়ে গিয়ে বাধা পায়। পেছনে হালকা হালকা মেজাজে চলা Jazz টা তার tone আরো কমিয়ে দিয়েছে।

-“হ্যাঁ, কি হয়েছে শায়লার?”

আমি পা এর আঙুল এইবার চিপে রাখি। দাঁত চিপে উত্তর দি,

-“মাকে ভুলে, আমাকে ভুলে…..তুমি শায়লা আন্টি কে…..”

আমি দারুণভাবে এক গ্লাস পানির অভাব বুঝতে পারি। সাত যুগের পিপাসী আমি। Stick আর apple juice এর বদলে পানি এখন আমাকে শান্তি দিবে। এক গ্লাস পানি খেয়ে, আমি দৌড়ে পালাতে চাইছি এখান থেকে হয়তো বা নিজের ই কাছ থেকে। বাবার চোখ আমার বুকের বাম পাশের ছোট ঘরটার জানালাটাকে পুড়িয়ে দিচ্ছে। এই ছোট ঘরে একটা তিনজনের পরিবার বাস করতো। এখন, শুধু আমি আর মা থাকি।

-“এইসব কি?”

-“সত্যি, বাবা। এইসব সত্যি।”

-“মানে, seriously. তুই এইটা চিন্তাও কিভাবে করতে পারিস?”

-“ঠিক এইটাই। ঠিক এইটাই ভেবেছিলাম আমি। আমি এইটা বরং চিন্তাও কিভাবে করতে পারি? কিন্তু, এইটা কি সত্যি না?”

-“তুই এই ধরনের বাজে অভিযোগ তোর বাবার opposite এ বলতে পারিস না।”

-“কেনো? যেটা হয়েছে সেটা কেনো বলতে পারি না? আমি নেহাতই তোমার মেয়ে বলে?”

-“তুই কিসের ভিত্তিতে এই সব বলছিস?”

-“তোমার ফোন log, মেসেজ লিস্ট। ফোন operate এ তুমি বরাবরই একটু কাঁচা।”

-“তোর লজ্জা করে না? তুই লুকিয়ে লুকিয়ে…..।”

-“তোমার লজ্জা করেনি,বাবা? মায়ের কাছে লুকিয়ে লুকিয়ে…..।”

-“স্যার, kindly please.”

আমার আর বাবার মাঝে বাঁধা এখন এই ওয়েটার। সে প্রথমে কফি টা টেবিলে রাখে। তার ধোঁয়া আমাকে চিন্তা করতে বাধ্য করে, ভবিষ্যতের কথা। এই ভাবেই কি তবে বাষ্প হয়ে উড়ে যাবো আমরা সবাই? তারপর, stick টা নামানো হয়েছে। তার গায়ে খাঁচ খাঁচ করে কাটা টুকরা টুকরা দাগ আমাকে মনে করিয়ে দেয় বাবার গায়ে লেগে থাকা টুকরো টুকরো কলংকের কালো দাগকে। তারপর, আসে apple juice. Extra ice না থাকায়, juice অনেক ঘন লাগে। বাবাকে কি আর ঘনঘন hug করা হবে না আমার?

-“Please, enjoy your meal.”

বাবা তার মাথা নাড়ায়। তারপর আবার আমার দিকে তাকায়। হঠাত তিন টেবিল পরে কারো spoon ফেলে দাওয়ার আওয়াজ পাই।

-“দেখ, তোর কথা মন থেকে ফেলে দে please.”

-“বাবা, ওই পড়ে যাওয়া চামচটার তিনটা কাঁটা আছে। ওইটা একসাথে লেগে আছে বলেই, চামচ টা useless নয়। সেটা যদি কাঁচের হতো। স্বচ্ছ, এপিঠ থেকে ওপিঠটা দেখতে পাওয়ার মতো? তাহলে, সেটা পড়লেই নি:শেষ। একদম ভেঙে যেতো পুরোটাই।”

-“তুই কি শুরু করলি বলতো। তুইকি আমার কথা শুনলি। এই সব খেয়ালি ছাড়। বাবার ব্যাপারে এই সব কি ভাবিস, এই মানুষ হলি তুই?”

-“আমরাও চামচ এর কাঁটার মতো তিনজন বাবা। তুমি, আমি আর মা। আজ, ‘সত্যি’ আমাদেরকে কাঁচের মতো স্বচ্ছ বানিয়ে দিয়েছে। এপিঠ-অপিঠ দেখা যাচ্ছে। যদি তা পড়ে যায়। তাহলে, তো…..”

বাবা, চুপ। তিনি অপরাধী। অপরাধীরা সাধারণত তেলপোকার মতো। তারা অপরাধ মাথা পেতে না নিয়ে, দৌড়ে পালিয়ে যেতে ওস্তাদ। কিন্তু, যেই না একবার অভিযোগের সত্যি বোঝার চাপে উলটে যায় ওমনি সব দাপট শেষ। তেলাপোকা উলটে গেলে যেমন সুরসুর আওয়াজ হয়, তেমন আওয়াজ আমার বাবার কাছ থেকে আসছে। তার নিশ্বাসের।

Jazz টা বেজে যাচ্ছে, নিজের তালে। টুং টাং প্লেটের সাথে চামচের আওয়াজ পুরো হল টা জুড়ে। সামনে রাখা খাবার আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। বলছে, খাও। আমি চোখ দিয়ে তাদের বোঝানোর চেষ্টায় লেগে আছি, এখন এক ধরন এর অপরাধ বোধ আমাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।

আমি উঠে দাঁড়ালাম।

-“কোথায় যাচ্ছিস?”

-“জানিনা।”

-“খাবার টা খেয়ে নে।”

-“যাচ্ছি, বাবা।”

-“বস, মা। আমার কথাটা শোন একটু।”

-“এইখানে তোমার কথা শোনার জন্য, আমি তুমি কেউই আসিনি। এসেছিলাম আমার কথাগুলো বলতে। আমি তা শেষ করেছি।”

আমি ঘাড়ের ব্যাগটা ঘাড়ে তুলে নি। ব্যাগে একটা চিরুণী আর math book টা ছাড়া তেমন কিছু নেই। তবুও, এই কাঁধ আমার খুব ভারী লাগছে। যদি আমি আমি না হতাম, বাম দিক ভেঙে পড়তো খুব সহজে।

পেছন দিকে বাবা ডাকছে। আমি হাঁটছি দুই হাত মুষ্টি করে, দাঁত চিপে, সোজা তাকিয়ে, ভারী দু’টো পা নিয়ে।

রাত ৮টা। এই সময় বাসায় থাকি। ছাদে গিয়ে মা এর কোলে শুয়ে আকাশ দেখি। আজও আমি আকাশ দেখছি। এক গাদা অশান্তির কোলে শুয়ে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে। যত আগাই, পা ভারী হয়ে পড়ে।

-“ট্যাক্সি।”

আমি ট্যাক্সির মখমলে সিটের খাঁজেখাঁজে ঢুকে থাকা বাদামের দু’একটা খোসার একে অপরের সাথে লেগে থাকা দেখছি। অতি সাধারণ হয়েও তারা একসাথে। গাড়ির জানালার বাইরে, এই রাতে কি শুধু আমার জীবনেই ঘটেছে দু:খ আর বর্তমানের সহবাস? নাকি, অন্য অনেকের জীবনেও?

মা দরজা খোলে।

-“কি, রে? এতো দেরী? আজ কোন বান্ধবীর বন্ধু ছেড়ে চলে গেলো যে sympathy দিতে পৌঁছে গেছিলি? নাকি তুই নিজে কোনো বন্ধু পেয়ে গেছিস, হ্যাঁ?”

মা হাসছে। আমি আমার রুমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।

-“তোর বাবা এখনো আসেনি। ফোন ধরছেনা।”

মা’র কথা মিলিয়ে যায়। আমি রুমে গিয়ে বসে পড়ি। দরজা বন্ধ। সব light বন্ধ করে, টেবিলের ল্যাম্প টা জ্বালাই। অন্য সব গল্পের মতো, এই গল্পেও টেবিলের একপাশে পুরো পরিবারের একটা ছবি। ল্যাম্পটার আলো উপরের সিলিং এ গিয়ে লাগছে।

পুরো সিলিং আলোকিত হচ্ছে না। হালকা হালকা। সেই আলো দেখতে দেখতে উপর পাশ হয়ে আমি বিছানায় শুয়ে পড়ি। খুব দুর্বল মনে হচ্ছে এখন নিজেকে। পা কাঁপছে। অনেক খিদে পেয়েছে আমার। সাথে ঘুম। আমার ক্লান্ত হাতটা টেবিলের উপর গিয়ে পড়ে। সাথে কাঁচ ভাঙার শব্দ। হয়তো photo frame টা পড়ে গেছে। না, কোনো এক ঘোরে আমি চোখ খুলে তা আর দেখতে যাইনি।

খুব গরম লাগছে এখন। চোখ খোলে। ফ্যান টা চালানো হয়নি। শরীর ঘেমে চ্যাটচ্যাটে ভাবে লেগে গেছে বিছানার সাথে। আমার চুলে গিটি লাগা। পেছন দিকটা ঘেমে গেছে। মাথা ব্যথায় চাড়তে পারছিনা। উঠে গিয়ে দরজা খুলি।

আমার মেয়ে পাশের ঘরে family photo টা নিয়ে নাড়াচাড়া করছে যার মধ্যে আমি শেফন একটা শাড়ি পড়া, আমার কোলে সাদা আর গোলাপি আভার একটা স্কার্ট পড়ে ঘাড় সমান চুলে আমার মেয়ে, আর আমার পিঠ ছুঁয়ে যে হাতটা চলে গেছে সেটা আমার husband এর। তার মুখে হাসি, তবে একই সাথে মোহ।

সে এখনো আসে নি। ১০:৩০ তো তার বাসায় এসে জুতো খোলার সময়। আমি খাবার টেবিলে গিয়ে বসি।

কিছু রান্না করা হয়নি। কিছুদিন ধরে অতীত এসে ধরা দিচ্ছে। Stick আর apple juice খেতে খুব ইচ্ছা করছে। প্রচন্ড গরম।

একটা মটর বাইক বাসার সামনে এসে থামে। তারপর কলিং বেল এর চিৎকার।

কাচি গেট খুলে দি। ও দাঁড়িয়ে। সামনে চুলটা কপালের উপর। যদিও সে খুব একটা বিশাল স্বাস্থ্যের অধিকারী নয়, তবুও তার পেটের কাছের বোতামটা খোলা। তার সাথে বেল্টের শেষ অংশ একটা খাঁচে ঢোকানো নেই। সে আমার পাশে এসে গালে একটা চুমু বসিয়ে দেয়। তারপর আমাকে pass করে ভেতরে যায়। তার শরীর থেকে আসা বেলীফুল এর গন্ধ আমার লোম দাঁড় করিয়ে নেই। বেলীফুলে আমার এল্যার্জি আছে। আমি যতবারই বেলীফুল দেখেছি, তা প্রতিবারই TV তে কোনো না কোনো South Indian মহিলার চুলের খোঁপায়। South Indian ভাষা আমার বোধগম্য নয়। হয়ত, সেই কারণেই বিরক্ত লাগে বেলীফুল। সুগন্ধটাও যেন কেমন কেমন। দক্ষিণ ভারতীয় নারিকেলের মতো মিষ্টি নয়।

ওর শরীর থেকে বেশ কিছুদিন ধরে এমন অবোধ্য গন্ধ পাচ্ছি আমি। তারপর, সেদিন ডান কানে কেটে যাওয়ার দাগ। আসলে, ওর হেলমেট টা অনেক চাপা। পড়তে গিয়ে হয়তো বা লেগে গেছে। ওকে আমি জিজ্ঞেসও করেছিলাম। ও বলেছে, shave করতে গিয়ে নাকি কেটে গেছে। আমি বলেছি, না হেলমেট পড়তে গিয়ে। আমার কথাটাই ঠিক। এইটা হেলমেটের দাগ, অন্য কিছুর হতেই পারেনা। জানিনা কেনো, তখন সে শুধু একটা হাসি দিয়েছিলো। ঠিক আমার বাবার মতো করে মোহের হাসি।

আমি এইসব ভাবছি আর শাড়ির আঁচল পেঁচাচ্ছি। আমার পা সামনে আগাচ্ছে আসতে করে। তবে, এই হাঁটার ধপ ধপ আওয়াজ টা একটু বেশী জোরে হচ্ছে। আমার রুম এ যাবো। ও হয়তো এখন ক্লান্ত হয়ে শুয়ে আছে। বেলীফুলের গন্ধ মাখা শার্টটা ঝুলছে অপরাধীর মতো ক্লান্ত হয়ে।

আমার চোখ সেই রুমে গেলো, যেখানে আমার মেয়ে খেলছিলো। সে এখনো family photo ফ্রেম টা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করছে। এই ছবির অর্থও কি তার কাছে অবোধ্য? আমি দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলাম। Show case টার উপর সে ফ্রেমটা রাখতে যাচ্ছে। আমার কপাল ঘেমে গেছে। ঘুম আসছে আবার ও। সেই দিনের রাতের মতো ক্লান্তও এখন। আমার মেয়ে frame টা কেবল রেখেছে আর আমি চোখের পলক ফেলেছি, ওমনেই কাঁচ ভাঙার আওয়াজ। সেইদিনের রাতের মতো আওয়াজটা। পলক ফেলে চোখ আর খুলতে ইচ্ছা করছে না। ঠিক সেদিন রাতের মতো। আগ্রহ আমাকে হার মানিয়েছে, আমি চোখ খুলে দেখলাম। আমার মেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ফ্রেমের মধ্যে আমি, আমার মেয়ে আর সেও হাসছে। শুধু কাঁচটা গুড়িগুড়ি হয়ে ভাঙা, এই যা। আমার মেয়ে ছবি টা ভেঙে দিয়েছে। সে তা ঠিক মতো রাখতে পারেনি। ধরে রাখতে পারেনি। ঠিক যেমন আমি সেদিন ধরে রাখতে পারিনি কাউকে। বাঁচাতে পারিনি বাবা, মা আর আমার হাসি বেঁধে থাকা ছবিটার সুখের বসত, সেই ফটো ফ্রেমটা।

Pin It on Pinterest