না চাওয়া সব চাওয়াগুলো (All The Unwanted Needs)

না চাওয়া সব চাওয়াগুলো (All The Unwanted Needs)

Rajiul Huda Dipto is a professional screenplay writer and working for years in the Bangladeshi TV industry. Besides that, he introduces himself as a photographer, whose photographs have been featured in various magazines and exhibitions all around the world. Not regularly, but he publishes his works in national dailies as well. Currently, he is working as a community writer in BuzzFeed and a contributor in Getty Images.

একজন মানুষ তার জীবদ্দশায় কতকি না হতে চেয়েছে,

ছোটবেলায় পুতুল খেলা পাশের বাড়ির পিয়ু, কদম ফুলের মালা হতে চায়তো, আমি হতে চাইতাম তার গাঁথুনি,

শক্ত করে দু’হাত ধরে আমরা কতো ইচিং-বিচিং খেলেছি।

স্কুলে আমার ঠিক পাশেই জায়গা রাখতো নন্দী, একদিন শুনলাম সে নাকি ফিটকিরি হতে চায়,

ফিটকিরির যে বিশ্রী গন্ধ, সে বলেছিলো তার গা থেকে বেরিয়ে আসা ধূপের গন্ধের মতোই,

এই গন্ধের কারণে নাকি ক্লাসে কেউ খুব একটা মিশতে চায়না, ফিটকিরি হলে পানিতে সহজে মেশার মতো সেও সবার সাথে সহজে মিশে যেতে পারবে।

একদিন দুপুরে হুট করে দেখি, আমার প্লাস্টিক ব্যাট আর বলটা পাঁচ টাকার সনপাপরি হয়ে যেতে চায়ছে, শখের পেনসিল বক্সটা রাগ করে স্টোর রুমে চলে যেতে চায়ছে, সন্ধ্যেবেলায় কারেন্ট গেলে কেউ আর বাড়ির দরজা খুলছে না, রাতের দিকে রাগ ধরলে আমার আর কান্না পাচ্ছে না, স্বপ্নগুলো কুৎসিত হয়ে যেতে চায়ছে, শরীরটা বড় হতে চায়ছে।

তারপর থেকেই আমি আর সকালে উঠতে চাইনি, ঘামতে ঘামতে হাঁটতে হাঁটতে গলির মোড়ে পড়তে যেতে চাইনি,

তারপর থেকে কলেজ পাড়ায় দু’টি বছর এক পলকেই শেষ করে ফেলতে চাইনি।

আমি চাইনি আমার মতোই মফস্বলটাও বদলে যাক, ভেজা মাটির গন্ধ ফুরাক, কৃষ্ণচূড়ার গাছ কেটে যাক, হঠাৎ করেই শহর ছেড়ে মহানগরে ঢুকে পরতে আমি চাইনি।

আমি অপুর সংসারের এক দিকে সিঁথি করা, ট্রেন দেখলেই কান চেপে ধরা বিরক্ত অপু হতে চাইনি কখনো,

আমার জীবনের অপর্নাকে কখনো বলতে চাইনি, “তোমার অনুশোচনা হয় না?”

এক মুহূর্তের হাজার রকম অর্থ-মানে খুঁজতে চাইনি, অংকে কাঁচা ভালোই ছিলাম, অল্প-বেশী গোটা-খুচড়ো টাকার গণিত বুঝতে চাইনি।

আজ সকালে কাল সকালের ক্যালেন্ডারে দাগ পরেছে,

ভুলতে বসুক সবাই আমায়, এমন হঠাৎ মন করছে

কতবার গেছি ভুলতে আমিও, তোমার শহর ভুলতে দেয়নি

“কে আমি?” আর “কিসের জন্যে?” এমন প্রশ্ন শুনতে চাইনি।

Will You? (তুমি কি?)

Will You? (তুমি কি?)

Rajiul Huda Dipto is a professional screenplay writer and working for years in the Bangladeshi TV industry. Besides that, he introduces himself as a photographer, whose photographs have been featured in various magazines and exhibitions all around the world. Not regularly, but he publishes his works in national dailies as well. Currently, he is working as a community writer in BuzzFeed and a contributor in Getty Images.

 

Will you cry if I die?
And will you be able to fly?
With me in the sky,
Come lets try,

Will you ask me not to go?
Will you wait in the parking row?
Will you be the cup of tea?
I loved,
Will you hide all the caste?
And will you be the lonely chest?
I will hide inside of it,
Without hope,
Nevertheless I will ask you why,
Will you cry if I die?

I will leave all my memories,
Will you fold all the letters,please?
Never let you read the sorrow of it,
And I will not be in the same way,
Will you follow me till the day?
But never you try only to meet,

Will you hold the pain I aged?
Will you stay with me in the maze?
If I shout at loud will you be shy?
Will you pray without asking why?
Will you catch me If I say good bye,
Will you cry if I die?

কে হুমায়ূন? (Who is Humayun)

কে হুমায়ূন? (Who is Humayun)

Rajiul Huda Dipto is a professional screenplay writer and working for years in the Bangladeshi TV industry. Besides that, he introduces himself as a photographer, whose photographs have been featured in various magazines and exhibitions all around the world. Not regularly, but he publishes his works in national dailies as well. Currently, he is working as a community writer in BuzzFeed and a contributor in Getty Images.

দিন আসে, দিন যায়। আমি শুধু চুপ থাকি। ইদানিং কিছু বিষয় আমার আশেপাশে, আমার নিউজ ফিডে আমার প্রতিদিনের জীবনে আমার ইন্টারেস্ট না থাকা সত্ত্বেও প্রবেশ করছে। অদ্ভুত এক টুপি আকৃতির চুল ধারী লোকের হোয়াইট হাউসের গদি হরণ, শুধু মাত্র একটা সেলফি বা না গিয়েও চেক-ইন বা “আমি গান বুঝি, সংস্কৃতি বুঝি” ধরনের কিছু হাতে গোনা লোকজনের লোক দেখানো ফোক ফেস্ট নিয়ে প্রতিদিনকার সমালোচনা আর এইচডি টিভিতে ঝিরঝিরে আবছা ক্যামেরায় ধারণ করা বিপিএল এর লাইভ টেলিকাস্ট এইসবের কিছুই আমাকে গ্রাস করেনি।

আমি ভাবছি, আমিকি এতোটাই বোরিং হয়ে গেছি নিজের দুনিয়ায় থাকতে থাকতে? না কি, মানুষের যাতে ইন্টারেস্ট বেশী সেখানে আমার ইন্টারেস্ট কম? এইসবের উত্তর নিয়ে পরে লেখা যাবে। এইবার আমি আসল কথায় আসছি।

The Book Cover of ‘মিসির আলি! আপনি কোথায়?’

হুমায়ূন আহমেদ পড়া শুরু করেছিলাম আম্মুর হাত ধরে। আম্মুর বইয়ের প্রতি দুর্বলতা বেশী। তার কালেকশন সত্যি দারুণ। প্রথম বই, “মিসির আলি আপনি কোথায়?” নামটা লিখার সময় আমার গায়ে এখনো কাঁটা দিচ্ছে, সত্যি দিচ্ছে। না, ভূতের গল্প না। কিন্তু, সেইরকমই। সে সময় আমরা ভাড়া বাসাতে থাকতাম। আমি বড় মামার সাথে ঘুমাতাম। সেই বাসায় আমাদের ঘরের পাশে লম্বা বারান্দা ছিলো। রাতে মামা ঘুমাতো, আমি বইটা পড়তাম। সাদা সেই কভারটায় লাল রঙা টেলিফোনের ছবি। গল্পের প্রধান ফিমেইল প্রোটাগোনিস্ট একটু অলৌকিক। মনে হতো সে লম্বা বারান্দা দিয়ে হেঁটে এসে দরজাটা ফাঁক করে বলবে, “আমাকে কি আয়নাতে দেখা যায়?” সেই থেকে হুমায়ূন প্রেম শুরু। সেটা আজ অবধি আছে।

কিন্তু, ইদানিং কালে আমি কষ্ট পাই হুমায়ূন আহমেদের নাম শুনলে বা তার প্রসঙ্গ উঠলে। ভার্সিটি তে একদিন ক্লাসে হুমায়ূন আহমেদ প্রসঙ্গ উঠলো। শিক্ষক মশাই টেকনিকালি হুমায়ূন আহমেদ এর তুলোধোনা করলেন। আমি বললাম, “বলে কি?” পাশের জন দেখলাম খুব সায় দিচ্ছে শিক্ষকের কথায়। বললাম, “তুমি হুমায়ূন আহমেদ পড়না?” সে তার মুখ বাঁকা করে উত্তর দিবো, “ইয়ু, না।” আমি অবাক হয়ে তাকালাম। সে আমার বয়সী, কিংবা একটু ছোটই হবে। তার মতো সৃজন মনা একজনের কাছ থেকে এইটা আশা করিনি। কষ্ট তার “না” বলাতে লাগেনি। কষ্ট লেগেছে, তার সাত জনমের বাঁকা মুখ দেখে। কষ্ট শিক্ষক মশাই এর হুমায়ূন অপ্রীতি তে লাগেনি। কষ্ট লেগেছে, উনার “হুমায়ূন আহমেদ বাংলা লিটারেচারে কি করেছেন?” মূলক প্রশ্ন থেকে। হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকতে আমার বয়সী যেসব পাঠক তার নাম জমতে জমতে মুখে ফেনা তুলতো, তারা যখন আজ উনি মারা যাবার পর বর্তমান সময়ে “আমার ভিনদেশী তারা” এর মতো “আমার ভিনদেশী লেখক” নিয়ে মাতামাতি করে নিজেকে স্মার্ট সাজাতে ব্যস্ত তা দেখে আমার কষ্ট লাগে।

Google Doodle on Humayun Ahmed’s 69th Birthday

“ধুর, হুমায়ূন আহমেদ পড়িনা”, “ইয়ু, হুমায়ূন পড়ি না”, এইসব বাক্য কি ইদানিং নিজেকে স্মার্ট প্রমাণ এর পন্থা? লাস্ট সেমিস্টারেও যখন সকালের ঘুম বাদ দিয়ে ভার্সিটি যেয়ে এক শিক্ষকের মুখে হুমায়ূন আহমেদ কে তুলোধোনা হতে শুনতাম কষ্ট লাগতো। হ্যাঁ, জেনারেশন পাল্টালে রুচি পাল্টাতে পারে কিংবা একই জেনারেশন এর কাল বিশেষে রুচি পাল্টাতে পারে। কিন্তু, শিক্ষক তাও আবার লিটারেচার এর শিক্ষক দের কাছে এই ধরনের রেসপন্স আমি চিন্তা করিনি। শিক্ষক বলেই যে হুমায়ূন আহমেদ ভালো লাগবে, এইটা অবশ্যই কম্পালশারি না। কিন্তু, এমন যুক্তি? এর থেকে তো পার্শ্ববর্তী দেশের “আনন্দবাজার” হুমায়ূন আহমেদের গুণ বেশী গায়। গুণীর কদর এর ক্ষেত্রে আমরা বরাবরই আনাড়ি। দাঁত থাকলে দাঁতের মর্ম যেমন বুঝি না, দাঁত চলে গেলেও মাঝে মাঝে তার মর্ম বুঝি না।

Himu Illustration. Source: Internet

আমাকে শুনতে হয়, লেখালেখির অভ্যাস কখন থেকে। আমি কখনো সত্যি উত্তর টা দিই না। শুধু বলি, “এই হবে হয়তো। এইসব তো বলে কয়ে আসে না, শুরু করেছি হয়ে গেছে।” কিন্তু না। আসল উত্তরটা অন্যখানে। আমার লেখালিখির রসদ জগিয়েছেন আমার মা। বাচ্চারা পায়ের উপর বসে ঝুলার একটা খেলা খেলে। যিনি পা দিয়ে তুলেন, তিনি বলেন “দোল দোল দোলনি, রাঙা মাথায় চিরুনি।” কিন্তু, আম্মু গায়তো আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো। আম্মু যখন, “ছেলে হারা শত মায়ের অশ্রু” বলে আমার দিকে তাকাতো সেই কষ্ট যেনো আমি বুঝতে পারতাম। তারপর, রবীন্দ্রনাথ আর নজরুলের আগমন। ভোরে লাল সোয়েটার, সাদা শার্টের নিচে সবুজ প্যান্ট পড়ে যখন স্কুলের পিটি করতে যেয়ে চোখ ছলছল অবস্থায় জাতীয় সংগীত গাইতাম তখন স্কুল মাঠের আম গাছ গুলা থেকে বেরিয়ে আসা কাষ্ঠ রসের গন্ধ আর জাতীয় সংগীতের লাইন আমাকে রবীন্দ্রনাথ কে চিনিয়েছে। আমার এক কাজিনের বাসায় গানের শিক্ষক আসতেন। তারা কয়েকজন হারমোনিয়াম নিয়ে বসতো। একটা খাতায় লাইন লেখা ছিলো, “চল চল চল। উর্দ্ধ গগনে বাজে মাদল।” তারা আমার সামনে গায়তে লজ্জা পেতো। আমি তাই গানটা পড়ে নিয়ে, নিজে থেকে আড়ালে গাইতাম। সেই থেকে নজরুলের আবর্তন। আর, তারপর হুমায়ূম আহমেদ। আব্বু একবার গল্প শুনিয়েছিলো, তিনি কিভাবে বর্ষার সময় গ্রামের কাঁদা রাস্তা পাড়ি দিয়ে রাতের বেলা বাড়ি থেকে পালিয়ে “আজ রবিবার” “বকর ভাই” দেখতে যেতেন। সেই থেকে আমার ইন্টারেস্ট। হুমায়ূন আহমেদ আমাকে শিখিয়েছেন।

প্রশ্ন আসবে, কি শিখালেন এই লোকটা। যে নাকি বাংলা লিটারেচার এ কি করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। এমন লোক, সত্যি কি কিছু শিখাতে পারে? প্রশ্নকর্তা বলবেন, “নিছক মনোরঞ্জন ছাড়া আর কিছু থাকলে বলবেন। মানে হচ্ব্যছে, ব্যক্তিগত জীবনের মনোরঞ্জন আরকি।” আমি মৃদু হেসে বলবো, “দাঁত খিলানো বন্ধ রেখে কথা শোনেন।” আমাকে বিশাল বিশাল বাক্যে অনুভূতি না লিখে কিভাবে সোজা ভাবে ছোট বাক্যে অনুভূতি প্রকাশ করতে হয় তা শিখিয়েছেন, শীতে কাঁথা মুড়ি দিয়ে আঁটসাঁট ভাবে শুয়ে গল্পের বই পড়তে শিখিয়েছেন, ভোরে খেঁজুর গাছের নিচে বসে খেঁজুর রস খাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, ঝরঝরে গরম ভাত ঘি দিয়ে আরাম করে কিভাবে খেতে হয় তা শিখিয়েছেন, ঝুঁটি বাঁধা মেয়ের সাথে প্রেম, খোলা ছাদে জোছনা দেখা আর সাপ তাড়ানোর ঔষধের নাম শিখিয়েছেন, বোন আর মায়ের মধ্যে মমতার কোনো পার্থক্য নাই সেটা আমার মাথায় ঢুকিয়েছেন, আমাকে পাঞ্জাবি পড়তে শিখিয়েছেন, সুন্দর মানে কালো হয় সুন্দর মানে ইংরেজিতে কথা বলা নয়, সুন্দরতা থাকে ক্ষুধার্ত মানুষের এক প্লেট বিরিয়ানি খেতে দেখার মধ্যে উনি আমাকে তা বুঝিয়েছেন। আর শিখিয়েছেন সব চেয়ে অমূল্য শিক্ষা। নিজের স্বপ্নের পেছনে দৌড়ানো। যা তুমি, তা হতে পারা টা। কেমিস্ট্রির গাছ হয়েও যে, পেশায় লেখক হওয়া যায় উনি তা শিখিয়েছেন।

কাউকে জোর করে হুমায়ূন প্রেমিক বানানো আমার ইচ্ছা না। যে বলুক যা ইচ্ছা। হুমায়ূন আহমেদ আমাকে বাংলা গল্পের বই হাতে নিতে শিখিয়েছেন। আমি স্মার্ট না হলাম। আমি জানি আমি কি। নিজের মহত্ব নিয়ে গর্ব করতে যিনি শিখিয়েছেন, আজ তার জন্মদিনে তাকে স্মরণ করছি। এরা না বুঝলেও, আমার মতো বোরিং কিসিমের মানুষ আপনাকে বোঝে। ভালো থাকুন। আল্লাহ্‌ আপনাকে জান্নাতবাসী করুক, আমিন।

ইফতারি খুব বেশী আবেগী (Impulsive Iftari)

ইফতারি খুব বেশী আবেগী (Impulsive Iftari)

Rajiul Huda Dipto is a professional screenplay writer and working for years in the Bangladeshi TV industry. Besides that, he introduces himself as a photographer, whose photographs have been featured in various magazines and exhibitions all around the world. Not regularly, but he publishes his works in national dailies as well. Currently, he is working as a community writer in BuzzFeed and a contributor in Getty Images.

যারা টিনএজ বয়সে আছেন, বা যারা তার থেকে একটু বেশী, বা যারা আর কিছুটা বেশী তাদের মধ্যে যারা পরিবারের সাথে বসবাস করেন কিন্তু এই বসবাস এক ঘেয়েমি লাগছে অথবা কিছু একটা করতে চান তাই বাড়ি ছেড়ে দূরে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন দেখছেন কিংবা উপায় নাই তাই দূরে যাবেন তাদেরকে বলি।

বাড়ি ছেড়ে দূরে থাকার কষ্ট, যাদের সাথে আপনার জীবনের এতটা সময় একসাথে বসে ইফতারি করেছেন তাদেরকে ছেড়ে ইফতারি করার কষ্ট যদি উপলব্ধি করতে চান তবে এই মাসে বাড়ি থেকে দূরে থাকুন।

ইফতারির দুই-তিন ঘন্টা আগে থেকে বাসার রান্নাঘরে একটা উত্তাপ ছড়িয়ে পড়তো। নাকে একটা ঝাঁঝ লাগতো, যা হয়তো ক্ষুধা বাড়াতো কিছুটা। ছোট শহরে থাকার কারণে দেখেছি, ইফতারির ঠিক আগের সময়টাতে রাস্তায় নেমে আসতো দুনিয়ার একাকীত্ব। বারান্দায় দাঁড়িয়ে দাতল করতাম, আমি ছোট ভাইয়া আর বড় মামা। তারপর, আব্বুর আসার অপেক্ষা। তারপর, ইফতারি টেবিলে বসা। তারপর, আযান শোনার প্রচেষ্টা।

বাসায়, আজো হরেক রকম আইটেমের ইফতারি ভাজা হয়, আজো অপেক্ষা করা হয় কিন্তু একটা চেয়ার খালি থাকে। আম্মুকে খুব মিস করি। আম্মু যখন ইফতারিতে খাবার বাড়ে, দেখতে দারুণ লাগে তাইনা বলুন?
কখনো আর সম্ভব হবে কিনা জানিনা, কিন্তু আমি স্বপ্ন দেখি ত্রিশটা দিন আবার সবার সাথে বসে ইফতারি করার। স্বপ্ন দেখি, ভার্সিটি থেকে ছুটি পাবার।

দিন যায় (Day Goes By)

দিন যায় (Day Goes By)

Rajiul Huda Dipto is a professional screenplay writer and working for years in the Bangladeshi TV industry. Besides that, he introduces himself as a photographer, whose photographs have been featured in various magazines and exhibitions all around the world. Not regularly, but he publishes his works in national dailies as well. Currently, he is working as a community writer in BuzzFeed and a contributor in Getty Images.

 

আমি তখন ক্লাস ওয়ানে। প্লে, নার্সারি শেষ করে ওয়ানে উঠেছি। আমার খবরের কাগজ পড়ার ঝোঁক ছিলো। ক্লাস ওয়ানে উঠে আমি বাংলা এবং মাঝে মধ্যে ইংরেজি পেপার পড়তাম বলে, সবার কাছে প্রশংসা শুনতাম। স্পেশালি, আম্মু ব্যাপারটা খুব এনজয় করতো (আম্মু আমার আগে থেকে ফ্যান কিনা)। সবার সামনে বলা হতো, এই বয়সে আমি কত মনোযোগ দিয়ে পেপার পড়ি।

আসলে, নানু বাসায় গেলেই আমি দেখতাম সকাল বেলা র’চায়ের উত্তপ্ত ধোঁয়ার মধ্যে একাকার নানুর চশমা পড়া চোখ পিটপিট করতো আর সেই চোখ দিয়ে তিনি পেপার পড়তেন। আমি নানু ভক্ত সেই ছোট থেকে। উনি ক্রিকেট খেলার ভক্ত। নানু চোখে দেখতে না পেলে, আমি কমান্টেটার হয়ে যেতাম। ইংরেজিতে চিৎকার করে তাকে আপডেট দিতাম। উনি ভুলগুলো ধরিয়ে দিতেন। সেই থেকে, আমার ইংলিশ স্পিকিংয়ে হাতে-খড়ি বলা চলে। নানু যখন পেপার পড়তেন, জোরে করে স্পিসিফিক কিছু আর্টিকেল পড়তেন। বিশেষত, উনার যেগুলো পছন্দ হতো। সেই থেকে, আমার নিউজপেপার পড়া শুরু হয়েছে। বাসায়, আমিও চা খেতাম আর নিউজপেপার পড়তাম। আম্মু বলতো, তার বাবার মতো লাগছে। আমার শুনে ভালো লাগতো।

মনে পড়ে, একজন মহিলা প্রতি সপ্তাহে আমাদের বাসাতে এসে নক করতেন। প্রতি সপ্তাহে। তার হাতে কিছু কাগজ থাকতো। তিনি প্রায় সিল্কের শাড়ি পড়তেন। আর, চোখে মোটা ফ্রেমের এক পুরানা হলদে চশমা। আর, চুলগুলো ভীষণ উষ্কখুষ্ক। উনি, এসে বাসায় ডাকতেন। সকালে আসতেন, কিন্তু আম্মু কলেজে থাকতো বলেই কথা বলতে পারতেন না। আমাকে কেমন আছি, এই সব জিজ্ঞেস করতেন। তারপর, আবার বিকেলে আসতেন। আম্মুর সাথে কথা বলতেন। কিছুদিন পর, উনি আসলেন। আমি বললাম, আম্মু নাই। তিনি ঠিক আছে বলে একটা পেপার দরজার ফাঁক দিয়ে আমাকে দিলেন। বললেন, আম্মু বা আব্বু আসলে দিতে। এইটা একটা সাপ্তাহিক খবরের কাগজ ছিলো। উনি বুঝতে পারেন নি, আমার মতো ক্লাস ওয়ানে পড়া একটা বাচ্চা নিউজপেপার হয়তোবা পড়তে পারে।

পেপারটার নাম আমার সঠিক মনে নেই। কিন্তু, সেটা স্থানীয় পেপার সেটা জানি। খুব পাতলা কাগজে ছাপিয়েছে। রঙ নেই। রঙ নেই দেখে প্রথমে হাত লাগাতাম না। কিন্তু, পরে সেইটা পড়তাম। আমি কিছুদিন পরেই লক্ষ্য করি, এই মহিলা আমাদের বাসাতেই শুধু আসেন না। আমার বাসার আশেপাশের প্রায় সব বাসায় গিয়ে নক করেন। পেপার দেন। কেউ নেয়, কেউ নেয়না। কেউ নিতে না চায়লে, হাসি মুখে তার ব্যাগ থেকে একটা মধুর কৌটো বের করতেন। মনে আছে, আমাকে উনি জিজ্ঞেস করেছিলেন “তুমি কি মধু খাও।” মধু আমার প্রিয় ছিলো। উনি আম্মুকে বলেছিলেন, “আপনার ছেলেটা মধু খায়। এই টা খুব খাঁটি মধু ভাবী। একটা নেন। আবার নেবেন।” এই মহিলাকে এলাকার সবাই যে খুব একটা পছন্দ করতো, তা নয়। বলতে শুনেছি, উনি নাকি খুব নাছোড়বান্দা। পরে, আমি জানতে পারি পেপারের অফিসে চাকরী করতেন আর মধু বিক্রি করতেন। ঘরে ঘরে নিউজপেপার বিক্রি করে বেতন নিতেন হয়তো বা। মহিলার হাসি কখনো শেষ হতে দেখিনি। এতো হাসতেন। বিশ্বাস করুন, তখন অসহায়ত্বের মানে না জানলেও বুঝতাম এইটা তার হাসির নিচে উঁকি মারে।

আমাদের বাসার দোতলায় ভাড়াটিয়ে দাদী থাকতেন। সেখানে, মৌমাছি বিশাল বড় বাসা বাঁধে। জাতীয় পত্রিকার মধ্যে তখন, ‘প্রথম আলো’ আর ‘দৈনিক সংবাদ’ হাতে পাওয়া শুরু করেছি। মৌমাছির ভয়ে বারান্দায় আর আমি যাইনি। হয়তো, সেই কারণে ওই মহিলাটিকে আর আমি দেখতে পাইনি কখনোই।

Pin It on Pinterest